সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তার একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রেক্ষিতে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর ইসকনের ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবমাননা করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্ট স্তম্ভে গত ২৫ অক্টোবর একটি সমাবেশে জাতীয় পতাকার ওপর ইসকনের পতাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় মো. ফিরোজ খান নামে একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এ কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞাসূচক এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক। এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়​।

চিন্ময়ের ভূমিকা ও গ্রেপ্তার

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার আগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যান্য আসামিদের খুঁজছে​।

প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ

ইসকন ও সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠন মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মামলার দ্রুত প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়​।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ জানিয়েছেন, এই মামলার অভিযোগ তদন্তাধীন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে​।

এই গ্রেপ্তার এবং মামলাটি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহল এ বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে, যা পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।